বন্ধ হচ্ছে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি : অনিশ্চিত ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

0
210

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ভাই, ভার্সিটি কি বন্ধ হয়ে যাবে, আমাদের সময়তো ভার্সিটি খারাপ ছিলো না। এখন বন্ধ হলে আমাদের কি হবে, আমরা সনদ পাবো তো?

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির বিবিএ ২৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম রাহাতের কাছে প্রশ্নগুলো করেন আইন বিভাগের ২১ তম ব্যাচের ছাত্র মো. জাকির হোসাইন।

এসব প্রশ্নের উত্তর কি আর আর শিক্ষার্থীদের কাছে থাকে! থাকে না বলেই তো শিক্ষার্থীরা দেখা হলেই নিজের ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চায়। পরিবারের স্বপ্ন আর যৌবনের চার/ছয় বছরে পরিশ্রমের কি হবে। কি হবে ভার্সিটির বন্ধ হলে এমন হাজারো প্রশ্নের মুখে অনিশ্চিত সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।

দীর্ঘ দিন থেকে মালিকানার দ্বন্ধের অভিশাপ বয়ে বেড়ানো শিক্ষার্থীদের কপালে চিন্তা ভাঁজ ফেলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি বন্ধের চিঠি। ২০১৭ সালের আগস্টে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ০১ কর্তৃক ইউনির্ভাসিটির চেয়ারম্যান বরাবর মালিকানা দ্বন্ধ নিরসনের জন্য এক চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছিলো ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ইউনির্ভাসিটির চলমান মালিকানা দ্বন্ধ নিরসন করতে হবে।

কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাসেও সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর মাত্র ৩৫ দিন। যে সমস্যার সমাধান কয়েক বছরেও হয়নি তা কিভাবে এতো অল্প সময়ে সম্ভব-এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। মালিকানার যে দ্বন্ধ বছরের পর বছর ধরে চলছে, এর প্রভাব পড়েছে ইউনির্ভাসিটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে।

২০১০ সালে ইউনির্ভাসিটির সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্টিত হয়েছিলো। এরপর কেটে গেছে আরো ৮ বছর। এরমধ্যে সমাবর্তন তো দুরের কথা ইউনির্ভাসিটির ভিসি, প্রো ভিসি, ট্রেজারার নিয়োগ দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি পদ চলছে ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে। আর তাদের ভারেই ‘ভারাক্রান্ত’ হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতি বছর কমছে ইউনির্ভাসিটির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। বর্তমানে আকর্ষনীয় নানা সুযোগ-সুবিধা দিলেও ইউনির্ভাসিটির আশানুরূপ শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। এদিকে চার দফা দাবিতে টানা ৩ দিন থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, দীর্ঘ আট বছর থেকে সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলে কার্যত কোন ভূমিকা পালন করছে না। এনিয়ে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা লিখিত আবেদন করলেও তা আমলে নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাই এবার কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে স্থায়ী সমাধান না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মালিকানা দ্বন্ধ নিরসন না হলে ভার্সিটিতে নতুন কোনো ছাত্র ভর্তি করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ভারপ্রাপ্ত ভিসি মনির উদ্দিন। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে গত বছর আমাদেরকে মালিকানা দ্বন্ধের অবসানের জন্য চিঠি দেয়া হয়।

কিন্তু আগামী ৫ জুন পর্যন্ত মামলাটিতে আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইউনির্ভাসিটির চেয়ারম্যান শামীম আহমদ কিছুদিন পূর্বে যুক্তরাজ্যে চলে যান। আমরা তাকে ৩০ জুনের মধ্যে দেশে আসার কথা বলেছি।

তিনি আসবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়-১) মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদার বলেন, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিলো।

যদি তারা নির্দিষ্ট মেয়াদের (৩০ জুন) মধ্যে মালিকানা দ্বন্ধ নিরসর করে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারে তাহলে ভর্তি বন্ধসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। সুত্র:- নিউজ মিরর

(Visited 1,555 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here