পাকিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের শপথ গ্রহন

0
61

সিলেটের সংবাদ ডটকম: পাকিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি নাসিরুল মুলক।

ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট হাউজে শুক্রবার এ শপথ অনুষ্ঠান হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই বিলুপ্ত হয়ে যায় পাকিস্তানের চলমান পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদের মেয়াদ।

এরপরই দুই মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। জাতীয় পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নাসিরুল মুলক।

এর মধ্যদিয়ে অবসান ঘটলো ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পরে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শাহিদ খাকান আব্বাসীর ক্ষমতার মেয়াদ।

ওদিকে বিচারপতি নাসিরুল মুলককে সর্বসম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে মনোনীত করে সরকার ও বিরোধীরা। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সিনেট চেয়ারম্যান সাদিক সাঞ্জরানি ও অন্য বিশিষ্ট অতিথিরা।

শপথ অনুষ্ঠানের পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নাসিরুল মুলককে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে তিনি কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। জিও নিউজের খবর অনুযায়ী, আলোচনাসাপেক্ষে মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করা হবে। তবে মন্ত্রিপরিষদ যে ছোট হবে এ বিষয়ে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

বলেছেন, তার প্রথম সিদ্ধান্ত হবে মুখ্য সচিব ফাওয়াদ হাসান ফাওয়াদকে পরিবর্তন করা। তাকে সরিয়ে ওই পদে বসাবেন সোহেল আমিরকে। ফাওয়াদ হাসানকে সরিয়ে সিভিল সার্ভিসেসের মহাপরিচালক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নাসিরুল মুলক বলেছেন, তিনি যথাসময়ের মধ্যে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেছেন, আমাদের ওপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করবো আমরা। পাকিস্তানে পর পর তিনটি পার্লামেন্ট তার পুরো পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। ওদিকে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসী তার ক্ষমতার মেয়াদের শেষ দিনটিতে ব্যস্ত সময় কাটান।

যোগ দেন জাতীয় পরিষদের বিদায়ী অনুষ্ঠানে। তার সময়কালে তার সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে। অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটি এবং ফেডারেল কেবিনেটে আলাদা আলাদাভাবে সভাপতিত্ব করেন। জাতীয় পরিষদে বক্তব্যকালে শাহিদ খাকান আব্বাসী বলেন, জাতীয় নির্বাচন একদিন বিলম্ব হলেও তা সহ্য করবে না পিএমএলএন।

১৯৪৭ সাল থেকে দেশে যেসব বড় বড় রাজনৈতিক দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তের জন্য ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনে তার দলের দাবি নতুন করে তুলে ধরেন। বলা হয়, এর মাধ্যমে ওইসব রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

তার এ দাবির প্রতি সঙ্গে সঙ্গে ইতিবাচক সাড়া দেন বিরোধীদলীয় নেতা সৈয়দ খুরশিদ শাহ। খুরশিদ শাহ আশা প্রকাশ করে বলেন, যে বা যারাই পরবর্তী সরকার গঠন করুক তাদেরকে এ বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নাসিরুল মুলক ১৯৫০ সালের ১৭ই আগস্টে জন্মগ্রহণ করেন সোয়াতের মিঙ্গোরাতে।

তিনি ইনার টেম্পল লন্ডন থেকে বার-এট ল ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭৭ সালে তার ডাক পড়ে বার-এ। তার পিতা কামরান খান ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। অন্যদিকে তার ছেলে নাসিরুল মুলক পছন্দ করতেন গলফ খেলা। কখনো তাকে দেখা যেত মারগালা পাহাড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন।

১৭ বছরেরও বেশি সময় তিনি আইনের সব ক্ষেত্রেই আইনজীবী হিসেবে চর্চা অব্যাহত রাখেন। তবে তারপর তাকে পেশোয়ার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ওই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন কিছু সময়। তারপর তাকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানানো হয়। ২০১৪ সালে তিনি পাকিস্তানের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

(Visited 15 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here