বন্ধ হয়নি, দক্ষিণ সুরমায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলছে মাদক ব্যবসা

0
86

সিলেটের সংবাদ এক্সক্লুসিভ: বার বার পুলিশের অভিযান, মাদক আস্তানা উচ্ছেদ, মাদক ব্যবসায়ী আটক হওয়ার পরও বন্ধ হয়নি সিলেটের দক্ষিন সুরমায় মাদকের ব্যবসা।

যদিও আগের মতো মাদক বিক্রির দৃশ্য চোখে না পড়লেও নজর এড়াতে পারেনি তাদের বর্তমান ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাদকের ব্যবসা।

সিলেট শহরের আর কোন এলাকায় এরখম ফেনালাপ দেখা যায়না, যতটুকু দেখা যায় দক্ষিন সুরমার পুরাতন ও নতুন রেলওয়ে স্টেশন, কদমতলী বাসস্ট্যান্ড, বাবনা পয়েন্ট, ভার্থখলা, ক্কীন ব্রিজের নিচ ও ব্রিজের দু’পাশের কলোনী ও ফেরিঘাট এলাকায় গেলে।

ভাই বিকাশ করেন, কাঠাল পৌছে যাবে। নতুবা বিকাশ করেন টিকিট পেয়ে যাবেন। এরখম বিভিন্ন শব্দ প্রায়ই শোনা যায় ঐ এলাকায় গেলে। কৌতুহল বশত আমাদের এক সোর্স, একজন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন ভাই কাঠাল কত করে বিক্রি করছেন, উত্তরে মাদক ব্যবসায়ীর প্রশ্ন আপনি কি নতুন?

হ্যাঁ জবাব দেয়ার পর মাদক ব্যবসায়ী বলল, আপনি প্রতি পিস নিতে পারবেন চারশত টাকায়। এরপর আমাদের সোর্সকে দাড় করিয়ে ঐ মাদক ব্যবসায়ী চলে গেলেন। এর কয়েক মিনিট পর আরেকজন আসলেন, বললেন, এ নেন নাম্বার বিকাশ করেন, তারপর মাল পৌছে যাবে আপনার কাছে।

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, দক্ষিন সুরমায় এখন চলছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইয়াবা, গাজা, মদ হিরোইনসহ অন্যান্য মাদক ব্যবসা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোনে দর দাম ঠিক করে মাদক পৌছে দিচ্ছে মাদকসেবীদের হাতে। তবে এক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীরা দাম নিচ্ছে বেশি।

আর মাদককে বিভিন্ন নামে ডাকা হচ্ছে। তরমুজ, কাঠাল, টিকিট বিচিসহ আরো অনেক নামে। তবে দক্ষিন সুরমায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি না হলেও প্রকাশ্যে চলে মাদক সেবন।

সুত্র থেকে জানা যায়, মাঝে মধ্যে মাদক ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও তাদের মুল হোতার নাম না বলে পুর্বে যারা মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিল (বর্তমানে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে) এমন কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম বলে থাকে।

যার কারনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব চতুর মাদক ব্যবসায়ীদের বুদ্ধির কাছে বার বার হেরে যাচ্ছেন। খোজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিন সুরমা এলাকায় বর্তমানে যেসব মাদক ব্যবসায়ীরা আছেন এদের সাথে পুর্বের মাদক ব্যবসায়ীদের কোন সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিন সুরমা এলাকার এক মাদক ব্যবসায়ী জানান, আমাদের নামে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের পিছনে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা আগে ব্যবসা করেছি, বর্তমানে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

তিনি বলেন, আমি গত ২ বছরে প্রায় ৫জন মাদক ব্যবসায়ীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দিয়েছি। এদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসার অন্যতম স্পট হচ্ছে সিলেটের দক্ষিন সুরমাস্থ রেলওয়ে স্টেশসহ আশেপাশের কয়েকটি জায়গা। এরমধ্যে সিলেট পুরাতন ও নতুন রেলওয়ে স্টেশন, কদমতলী বাসস্ট্যান্ড, বাবনা পয়েন্ট, ভার্থখলা, ক্কীন ব্রিজের নিচ ও ব্রিজের দু’পাশের কলোনী ও ফেরিঘাট অন্যতম।

এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চাংঙ্গা রাখতে বেছে নিয়েছে নতুন কৌশল। তারা বিভিন্ন তরুন-তরুনীদের টার্গেট করে তাদের মাদক সেবনে উৎসাহী করে তুলে এবং তাদের হাতে ফ্রি মাদক তুলে দেয়। তারপর এরা একবার আসক্ত হয়ে গেলে, বন্ধ করে দেওয়া হয় ফ্রি মাদক সরবরাহ। মাদকের নেশায় তরুন-তরুনীরা মাদক কিনতে বাধ্য হয়।

আর এই মাদকের টাকা যোগাড় করতে নানা ধরনের অপর্কমে জড়িয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময়ী তরুন-তরুনীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, দিন দিন বেড়েই চলেছে এই অপকর্ম। তাদের দাবী এই অপকর্ম রোধে প্রশাসনকে সহায়তা করবে এলাকাবাসী। দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ  বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

(Visited 141 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here