‘লিংক-থ্রি’র নিম্নমানের ইন্টারনেট সেবা, ক্ষুব্ধ গ্রাহক

0
115

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘লিংক-থ্রি’ এর গ্রাহক ভোগান্তি দিনে দিনে যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে সেবার মান।

বিভিন্ন মুখরোচক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহক আকৃষ্ট করলেও আদতে সেই অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চুক্তির সময়ে সকল গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সংযোগ প্রদানের পর আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না।

দিনে বেশির ভাগ সময়ই ইন্টারনেটের গতি দূর্বল, একেবারেই না থাকাসহ নানাবিধ সমস্যায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বার বার ‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান পান না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। তবে ‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষ বলছেন, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে কিছুদিন থেকে একটু সমস্যা থাকলেও এটি সকল ক্ষেত্রে না।

‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলেট অফিসের আওতায় বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক আছেন, যারা বিভিন্ন রকম প্যাকেজের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করছেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি গ্রাহকের নেট ব্যবহারে যে কোন সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ কাজ করবে।

এমনকি গ্রাহকের ভুল ব্যতীত যদি গ্রাহক নেট ব্যবহার করতে সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার গ্রহণ করবেন। তবে চুক্তিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, তা কেবল সংযোগ প্রদানের সময়ই সীমাবদ্ধ! সংযোগ দেওয়ার পর আর কোন দায় নিতে চান না কর্তৃপক্ষ।

এমন যখন অবস্থা, তখন ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গাফিলতি নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেও ক্ষোভ ঝাড়ছেন। এমনকি প্রতারণার মামলা দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করছেন অনেকে। সিলেটের নাট্যকর্মী রুবেল আহমদ কুয়াশা ‘লিংক-থ্রি’ এর সমস্যা নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পরামর্শ চেয়ে লিখেছেন, ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার “লিংক থ্রী” এর বিরূদ্ধে মামলা করলে কি “ভোক্তা অধিকার আইন” এ মামলা করতে হবে না কি অন্য কোন ধারায়?

বা অন্য কোন উপায়ে নিচে উল্লেখিত সমস্যাটির সমাধান পাবো? বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিল খুশি হবো। তিনি আরো লেখেন, ‘এই মাসের (মে) ১২ তারিখ থেকে প্রচণ্ড পরিমাণ বাজে সার্ভিস পাচ্ছি। প্রতি মিনিটে মিনিটে কানেকশন ড্রপ করছে। এ ব্যাপারে সমাধানের জন্য তাদেরকে অনবরত কল দিলেও তারা কোনরকম সমাধান দেন নাই।

২৪ তারিখে আমাকে জানানো হয় যে, তাদের কেউ একজন এসে সরাসরি সমস্যাটা অবলোকন করবেন। তারই ফলশ্রুতিতে গত ২৭ মে তাদের একজন (নাম প্রিন্স) বাসায় এসে সরেজমিনে দেখে গেছেন। এবং তিনি আমার সামনেই উর্দ্বতন কর্মকর্তাকে কল দিয়ে প্রতি মিনিটে মিনিটে কানেকশন ড্রপের কথা বলেছেন।

কিন্তু তিনি আমাকে কোন সমাধান দিয়ে যান নাই। গত ২৬ তারিখ থেকে কাস্টমার কেয়ারে কল দিলে মিনিটের পর মিনিট অপেক্ষায় রাখা হচ্ছে, কিন্তু কারো সাথে কথা বলতে পারছি না। এই ড্রপ করার কারণে আমার প্রচুর (আর্থিক) ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রমান দিতে পারবো।

বি. দ্র.- এই স্ট্যাটাসটি দেবার জন্য বাধ্য হয়ে মোবাইলের ডাটা কিনতে হয়েছে। রুবেল আহমদ কুয়াশার ওই স্ট্যাটাসে আরো ২০/২২ জন এসে কমেন্ট করেন যে তারাও একই সমস্যা পোহাচ্ছেন অনেকদিন ধরে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রুবেল আহমদ কুয়াশা সিলেট ভয়েসকে বলেন, “আগে কাস্টমার কেয়ারে কল করলে সমস্যা শুনতো, কিন্তু এখন আর কল রিসিভও করে না। এসএমএস দিয়ে জানাচ্ছে ৪/৫ দিন পর সমস্যা থাকবে না।

কিন্তু এই একই মেসেজ আমাকে আজ এক সপ্তাহ ধরেই পাঠাচ্ছে। প্রতিনিয়ত নেট ড্রপ হচ্ছে, গুরুত্বপুর্ণ অনেক কাজই করতে পারছিনা। কেবল রুবেল আহমদ কুয়াশাই নন, এরকম অভিযোগ অনেক গ্রাহকের। নিজেদের দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন সময় গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ থাকার পরও ‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষ নিজেদের সাফাই গাইছেন।

তারা বলছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা গ্রাহক সেবাটাকেই প্রাধান্য দিয়ে চলছি। সৈয়দ আবুল ফজল নামের একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় তিন মাস আগে লিংক-থ্রি সংযোগ নিয়েছিলাম। এর পর থেকেই প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ বার নেট আসতো যেতো।

বার বার তাদের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের পরও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রায় ১৫ দিন থেকে নেট এতোটাই দুর্বল ছিলো যে একেবারেই ব্যবহার করতে না পেরে মডেম ব্যবহার করেছি। এসব বিষয় নিয়ে তাদের সাথে কথা বলে কোন সমাধান না পাওয়ায় তাদের সংযোগ পরিবর্তন করে অন্য প্রতিষ্ঠানের নেট সংযোগ নিয়েছি।

এব্যাপারে ‘লিংক-থ্রি’ সিলেট অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিপণন কর্মকর্তা সিলেট ভয়েসকে বলেন, “আমাদের একটি সার্ভারের সমস্যার কারণে কিছুদিন থেকে এ সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধানের। বার বার চেষ্টা করেও পারা যাচ্ছে না। তবে আশা করি দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা হবে।

একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, ‘লিংক-থ্রি’ নিয়মিত সার্ভিস প্রদানে ব্যর্থ, এমনকি ‘লিংক-থ্রি’ নিজেদের গাফিলতির কারণে গ্রাহকরা নেট না পাওয়ার পরও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায় করেন- এমন প্রসঙ্গে ওই বিপণন কর্মকর্তা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এবং পত্রিকায় নিজের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শুধু তাই না, ঊর্দ্ধতন কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলিয়ে দেবেন বলে এ প্রতিবেদকের ফোন নম্বর রাখলেও ‘লিংক-থ্রি’ কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(Visited 113 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here