রাজনগরে যুবতীকে ধর্ষণের পর হত্যা : গ্রেফতার ১

0
58

সিলেটের সংবাদ ডটকম: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। পুলিশ জানায়, হত্যা করা হয়েছিলো তাকে।

জানা গেছে হত্যার কারণ ও আটক করা হয়েছে সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে। নিহতের নাম রাশেদা বেগম (৩০)। রাশেদা সিলেট ওসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় পুলিশ আবারক মিয়া (২২) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। আটক আবারক মিয়া রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিককা গ্রামের মজম্মিল মিয়া ওরফে মজু মিয়ার ছেলে। আটকের পর রোববার (০৩ জুন) বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আবারক।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রাশেদাকে গণধর্ষণের পর ঘটনা জানাজানির ভয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে আবারক ও আরো এক যুবক। এজন্য মৃতদেহের শরীরের সাথে ইট বেঁধে পানিতে ভাসিয়ে দেয় তারা। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে রাশেদা বেগমের (৩০) মোবাইল ফোনের সূত্রে পরিচয় ছিল গ্রেফতারকৃত আবারক মিয়া ও মৌলভীবাজারের অপর এক যুবকের সঙ্গে।

এর সূত্রধরে বেশ কয়েক বার তাদের দেখা-সাক্ষাতও হয়েছে। গত বুধবার ৩০ মে তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মৌলভীবাজার আসেন রাশেদা বেগম। সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের ওই যুবককে নিয়ে রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন রাশেদা। এসময় ওই যুবক আবারক মিয়াকেও ফোন করে রাজনগর নিয়ে আসেন।

রাশেদাকে নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদের পার্শ্ববর্তী মাছুয়া নদীর ধার ঘেসে পশ্চিম দিকে যেতে থাকেন। এসময় দক্ষিন খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে নদীর ধারে এসে ওই যুবক রাশেদাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হওয়ায় উভয়ে জোরপূর্বক গণ ধর্ষণ করে।

বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে গলায় ওড়না পেছিয়ে তাকে হত্যা করে ধর্ষকরা। পরে লাশের সঙ্গে ইট বেধে নদীতে ডুবিয়ে দেয় রাশেদার লাশ। রাজনগর থানা সুত্রে জানা যায়, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাজনগর থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম ও এসআই রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবারক মিয়াকে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার থেকে গ্রেফতার করে।

রোববার বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের ম্যজিস্ট্রেট জিয়াদুল হকের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে জেল হাজতে পাঠান আদালত। উল্লেখ্য. গত ১ জুন শুক্রবার রাতে রাজনগর থানা পুলিশ দক্ষিন খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিমে মাছুয়া নদী থেকে ভাসমান যুবতীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

লাশের খবর পেয়ে নিহতের ভাই রাজনগর থানায় এসে লাশ সনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল ইসলাম জানান, আসামীরা রাশেদাকে ধর্ষণ করে লাশ পানিতে তলিয়ে গুম করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তির সহায়তায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, এ ঘটনা রাশেদার ভাই আব্দুল খালিদ বাদী হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেছেন। নিহতের ভাইয়ের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

(Visited 76 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here