সিটি মেয়র আরিফুলের বিরুদ্ধে আ’লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ

0
97

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গভীর আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে।

আর এই আঁতাতের কারণে তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজ দলে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে আ’লীগের দুইজনকে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ে ভূমিকা রেখেছেন।

তার বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য অভিযোগ এনে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার দাবি জানিয়ে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (তখন মুক্ত ছিলেন) সহ নীতিনির্ধারণী ফোরামে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপি।

সম্প্রতি অভিযোগের একটি কপি এ প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছলে গত সপ্তাহে কথা হয় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসনসহ স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্যের কাছে আমি ও সেক্রেটারি বদরুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত এই অভিযোগ দিই।

আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটিসহ আরও তিনটি মহানগরীতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। আসন্ন এই নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির দলীয় মনোনয়নে এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ তুললেন তার সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা।

অভিযোগে বলা হয়, মেয়র হওয়ার পরই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘দহরম-মহরম’ সম্পর্ক তৈরি করেন আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেন। অথচ বিএনপির মনোনয়নে তিনি মেয়র হলেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন।

দলীয় অনেক কর্মসূচিতে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে নেতাকর্মীরা তার এমন বিমাতাসুলভ আচরণে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। আর এর শুরুটা হয় বিগত উপজেলা নির্বাচনে। সে সময় সিলেট সদর উপজেলায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাহের শামীম ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদে জেলা বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক) আলী আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে মেয়র আরিফ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করেন।

এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল আ’লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করা। আর নির্বাচনে তাই হলো। বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার জনপ্রিয়তা থাকার পরও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কাছে তারা পরাজিত হন। অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির হাজারও নেতাকর্মীর নামে সিলেটে একাধিক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।

অথচ আরিফের নামে কোন মামলা নেই। শুধুমাত্র কিবরিয়া হত্যা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন। আর তা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের একটি অংশের সঙ্গে আঁতাত করার কারণেই। এদিকে, বিএনপির যে দু’জন প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন তারা আরিফুল হকের নির্বাচনে রাতদিন পরিশ্রম করেছিলেন। অথচ তাদের সঙ্গেই আরিফ বিশ্বাসঘাতকতা করেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও গত সিটি নির্বাচনে বিএনপির কো-অর্ডিনেটর আবদুল কাহের শামীম বলেন, ‘আরিফ তো আমার বিরোধিতা করেছেন। আমার নিশ্চিত বিজয় ছিল উপজেলা নির্বাচনে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে মানুষের মধ্যে তার সমর্থন থাকলেও তিনি কর্মীবান্ধব নন। যার কারণে কর্মীরা তার পাশে নেই।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দলের ‘কর্নধার’ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাকারী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আহমদ সামাদকে একটি অনুষ্ঠানে আরিফুল হক চৌধুরী মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। অভিযোগে এর একটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ‘ক্ষমতালোভী স্বার্থপর এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে বহুবার কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তার চাপাবাজি আর ভাঁওতাবাজি দিয়ে প্রায়ই নেতাদের মন ভুলিয়ে দেন।

ফলে আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে চেয়ারপারনকে অনুরোধ করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন দাবি করেন, তার হাতে লিখিত অভিযোগ না পৌঁছলেও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পত্রিকার কিছু কাটিং পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, তা ঠিক করবে দল। দলীয়ভাবে মনোনয়ন যাকে দেয়া হবে, তার পক্ষেই সবাই কাজ করবে।’ এসব বিষয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটে ধর্মীয় সম্প্রীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্প্রীতিও দীর্ঘদিনের। সাধারণ নেতাকর্মী ও নাগরিকরা এই সম্প্রীতিকে সবসময়ই স্বাগত জানায়। কিন্তু এটি কিছু নেতাদের গাত্রদাহের কারণ হয়।

তিনি বলেন, বিএনপির সব কর্মসূচিতে তিনি অগ্রভাগে ছিলেন। আর নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে সঙ্গত কারণেই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখতে হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৫ জুন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পরের বছরের ২৮ ডিসেম্বর কারাবন্দী হন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রে তিনি আসামি হন। এরপর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে বহিষ্কার করে। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী থাকতে হয় আরিফুল হক চৌধুরীকে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১২ মার্চে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে শুনানি শেষে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত হয়।

পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। গত বছরের ৬ এপ্রিল স্বপদে মেয়রের চেয়ারে বসেন আরিফুল হক চৌধুরী। সুত্র:- সংবাদ

(Visited 318 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here