সততার জন্য পুরস্কৃত হলেন আজিজ

0
68

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সততার জন্য পুরস্কৃত হলেন রিকশা চালক আব্দুল আজিজ(৫৫)। বৃহস্পতিবার দুপুরে  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিকশা চালক আজিজের হাতে পুরস্কার স্বরূপ ৫ হাজার টাকা তুলে দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরি জামান।

নগরীর রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ৮৫হাজার টাকা ফিরত দিয়ে সততার প্রমান দিলেন তিনি। আর তাতে খুশি হয়ে  সততা ও নিষ্ঠার জন্য ঈদের পর  আরও সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আজিজকে।

জেলাপ্রশাসকের সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আজিজের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার নোয়াপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত মো. আব্দুল হামিদ খানের পুত্র তিনি। রিকশা চালানোর সুবাদে তার বর্তমান বসবাস সিলেট নগরীর বালুচর এলাকায়। এই সময় রিকশা চালক আজিজ বলেন, “আমি খুব খুশি।

আমার কাজে খুশি হয়ে ওই টাকার আসল মালিকও আমাকে ২ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছিলেন। এদিকে তাঁর হাতে পুরস্কারের টাকা তুলে দেয়ার সময় জেলা প্রশাসক নুমেরি জামান বলেন, “আপনি (আজিজ) আমাদের হিরো। আপনার মতো এমন সৎ মানুষ আজকাল দেখা যায় না।

আপনাকে পুরস্কৃত করতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আব্দুল আজিজ গত ১১ জুন দুপুরে রিকশা চালিয়ে বন্দরবাজার থেকে জিন্দাবাজারের দিকে আসার সময় মুক্তিযোদ্ধা গলির সামনের রাস্তায় টাকার একটি বান্ডিল পড়ে থাকতে দেখেন। বান্ডিলটি হাতে নিয়ে আশেপাশের লোকজনকে তিনি এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে থাকেন।

এ সময় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা গলিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছিলেন সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম সাজ্জাদুল হাসান। বিষয়টি তাদের নজরে এলে তারা টাকার বান্ডিলটি পুলিশের জিম্মায় দিয়ে আসল মালিককে খুঁজে বের করতে বলেন।

এমন সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আমিনুল ইসলাম রুহেল নামের এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, কুড়িয়ে পাওয়া টাকার বান্ডিলটি তার। পুলিশের প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, ওই বান্ডিলে কতো টাকার কয়টি নোট রয়েছে। রুহেলের বক্তব্যের সত্যতা খুঁজে পায় পুলিশ।

এরপর রুহেলের দাবি অনুযায়ী প্রাইম ব্যাংকের লালদীঘির পাড় শাখায় যায় পুলিশ। সঙ্গে যান দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া ও এম সাজ্জাদুল হাসান। সেখানে গিয়ে চেক বইয়ের কপি মিলিয়ে এবং ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ রুহেলের দাবির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এরপর সেই ৮৫ হাজার টাকা রুহেলের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

রিকশা চালকের এমন সততায় মুগ্ধ হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া ও এম সাজ্জাদুল হাসান সেদিন ওই রিকশা চালকের নাম ও ঠিকানা রেখে দিয়েছিলেন। সততার জন্য ওই রিকশা চালককে পুরস্কার দেবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা। অবশেষে তাদের উপস্থিতিতেই আজ পুরস্কৃত হলে রিকশা চালক আব্দুল আজিজ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার আশরাফুল হক।

(Visited 243 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here