রাজনগর বন্যায় প্লাবিত : নিহত ২

0
84

সিলেটের সংবাদ ডটকম: মৌলভীবাজারের রাজনগরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মনু নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এতে আতঙ্কে রয়েছেন এই উপজেলার মানুষ। শুক্রবার রাত থেকে পানিবন্ধি মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত কামারচাক, মনসুরনগর ও টেংরা ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে।

রাজনগর উপজেলায় পানিতে ডুবে এক শিশু ও বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে মোট ৬৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব টাকা দিয়ে শুকনা খাবার ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

মৌলভীবাজার শহরের সাথে এই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদমহাটা এলাকায় শুক্রবার বাঁধ ভেঙ্গে কদমহাটা, শ্বাসমহল, আশ্রাকাপন, মহলাল, দক্ষিন মহলাল, মালিকোনা, চাটুরা, বনমালী পঞ্চেশ্বর, পঞ্চেশ্বর, সরখরনগর, খাসপ্রেমনগর, বরকাপনসহ ১৫টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

টেংরা ইউনিয়নের ভাঙ্গারহাট, সৈয়দ নগর, আকুয়া, আদিনাবাদ, কোনাগাঁওসহ ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কামারচাক ইউনিয়নের মশাজান, কামারচাক, ভোলানগর, দস্তিদারের চক, ইসলামপুর, জালালপুর, তেঘরি, করাইয়া, মৌলভীরচক, আদমপুর, মেলাগড়, শান্তকুল, পঞ্চানন্দপুর, একাসন্তোষ, হাটিকরাইয়া, চাটিকোনাগাঁও, মুর্তিকোনাসহ ২৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

এদিকে ছোট ছোট ক্যানেলগুলো দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় রাজনগর সদর ইউনিয়নের দক্ষিন খারপাড়া এলাকার মুজিবনগর গুচ্চগ্রাম তলিয়ে গেছে। পুরো উপজেলায় আকস্মিক এই বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কদমহাটা উচ্চ বিদ্যালয়, তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, পোর্টিয়াস মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মহলাল উচ্চ বিদ্যালয়, কামারচাক বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রসহ ১০ টিরও বেশি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ধলাই ও মনু নদীর ভাঙ্গনে এসব এলাকায় এই বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। মনু নদীতে শনিবার বিকেল পর্যন্ত বিপদসীমার ১৮০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাতে তা ২ সেমি কমে ১৭৮ সেমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় প্রতিদিন রাজনগর উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

ধান-চাল, গবাধিপশু নিয়ে মানুষ বেকায়দায় পড়েছে। নিজেরা আশ্রয় পেলেও গবাধিপশুর থাকার জায়গার ব্যবস্থা করতে পারছেন না। এছাড়া চুরি হওয়ার ভয়ে অনেকে গবাধিপশু রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। ভাঙ্গারহাট এলাকায় শনিবার রাতে ওয়াবদার বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির ফৌজি ও ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাম্মুসহ স্থানীয়রা মাটির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন ঠেকান।

এদিকে কোনাগাঁও এলাকায় ওয়াবদার বাঁধে ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থানীয়রা মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধ উঁচু করেন। আশ্রাকাপন এলাকার আব্দুর রহিম (৩২) বলেন, আমাদের এই এলাকায় কোনোদিন এতো পানি হতে দেখিনি। তাই পূর্বপ্রস্তুতিও ছিলো না। আমার ঘরে প্রায় সাড়ে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে।

ধান-চাল সব পানির নিচে। টেংরা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু খান বলেন, মানুষ অসহায় অবস্থায় রয়েছে। আমার ইউনিয়নে শনিবার পর্যন্ত ২২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজও সেনাবাহিনীর উদ্ধার কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, সেনাবাহিনী পানিবন্দীদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করি আজকের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করা যাবে। এ পর্যন্ত মোট ৬৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে তা দিয়ে বন্যার্তদের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

(Visited 56 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here