যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে খালি হলো ‘সেলফি ব্রিজ’ খ্যাত কাজির বাজার সেতু

0
172

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: প্রশাসনসহ সকলেই যখন চেষ্টা করে কাজির বাজার সেতুর উপর থেকে চটপটি ফুচকাওয়ালাদের সরাতে পারেনি তখন এক যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে খালি হলো ‘সেলফি ব্রিজ’ খ্যাত কাজির বাজার সেতু।

এখন আর সেতুর উপরে কোনো চটপটি-ফুচকাওয়ালা নেই। উদ্বোধনের পর থেকে এ সেতুর দুই পাশে মানুষজন চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাত পুরোটাই চটপটি-ফুচকাওয়ালারা।

সেই সাথে রাস্তায় যান চলাচলের বেশিরভাগ জায়গাও দখলে নেয় তারা। এ অবস্থায় অনেকটা ঝুঁকির মধ্যেই ছিল সেতু দিয়ে হাঁটা এবং যান চলাচল। কিন্তু প্রশাসন ছিল নিরব দর্শকের ভূমিকায়।

সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ রাতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোসাদ্দেক হোসেন মুসা এ সেতুর উপর দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দুই দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেলে টনক নড়ে পুলিশের।

শুরু হয় ব্রিজ খালি করার কাজ। জানা গেছে- ওই দিন কাজির বাজার ব্রিজের উপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে নগরীতে প্রবেশ করছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগ নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মুসা। এসময় কালবৈশাখী ঝড়ে একটি চটপটির দোকান উড়ে গিয়ে তার উপর পড়ে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন।

দুই দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার অবশেষে তিনি মারা যান। তখন থেকেই পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় খালি করা হয় কাজির বাজার সেতু। তুলে দেওয়া হয় সব চটপটি ও ফুচকাওয়ালাদের। নগরীতে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখঘাট এলাকায় সুরমা নদীর উপর তৈরি করা হয় প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন এ সেতু।

প্রথমে ২০০৭-৮ অর্থ বছরে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সকল কাজ শেষ করে উদ্বোধন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ২০১৫ সাল পর্যন্ত। উদ্বোধনের পর থেকেই সেতুর এ মোড় থেকে ও মোড় পর্যন্ত দুই পাশের ফুটপাত দখলে নেয় চটপটি-ফুচকাওয়ালা।

এদিকে শেষ বিকেলের মৃদু হাওয়া আর নয়নাভিরাম সূর্যাস্তের কারণে সেতুর উপর বাড়তে থাকে মানুষের সমাগম। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে চটপটি-ফুচকাওয়ালাদের বেপরোয়া দখল তৎপরতা। তাদের দখলদারিত্বের কারণে জনসাধারণের দাঁড়ানোর জায়গাটাও হারিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পরও কোন কাজ হয়নি। বরং রাত হলে বিদ্যুৎ এর অবৈধ সংযোগ দিয়ে বাতি জ্বালিয়ে চলতো তাদের ব্যবসা। যুবলীগ নেতার মৃত্যুর পর থেকে তারা সরেছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে কোতোয়ালী থানার ওসি বলেন, ‘আমার জানা নেই। আমি নতুন এসেছি।

হতে পারে এরকম কোন কিছু। আমার মনে হয় রমজানের কারণে এতদিন বসেনি, তবে ঈদের পর তারা ২/৩ দিন বসেছিলো পরে আমরা তাদের ভালো করে বুঝিয়ে বলার কারণে আবার সরে গেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, তাদেরকে এখান থেকে তুলে দিতে প্রশাসনের তেমন একটা কাজ করতে হয়নি।

এলাকাবাসী নিষেধ করায় তারা এখন আর বসে না। কবে থেকে তারা এখানে আর বসছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ২/৩ মাস হবে তারা এখানে আর বসে না। যারা এখানে ব্যবসা করত তারা এ এলাকারই লোক। তাই এলাকবাসীর নিষেধেই তারা এখানে বসা বাদ দিয়েছে।

সরেজমিনে কাজির বাজার সেতু ঘুরে দেখা গেছে সেতুর উপর কোন চটপটি-ফুচকার দোকান নেই। সরেজমিনে সেতুর উপর কোন দোকান পাওয়া না গেলেও কাজির বাজার থেকে সেতুর শেষাংশের টেকনিক্যাল মোড়ের পাশে একটি খেলার মাঠে আছে কেবল একটি চটপটি-ফুচকার দোকান। চটপটি দোকানি আউয়াল বলেন, ‘আগে সেতুর উপর থাকায় ব্যবসা ভালই হতো।

কিন্তু এখন নিচে হওয়ায় উপর থেকে লোকজন আর নিচে নামতে চায় না। তাই ব্যবসা একেবারেই খারাপ।’ সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই সেতুর উপর বসে ব্যবসা করে আসলেও কিছু দিন আগে যুবলীগ নেতা মুসার মৃত্যুর পর থেকে এলাকার লোকজন আর পুলিশ প্রশাসন মিলে তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে সেতুর উপর কোন চটপটি-ফুসকার দোকান না থাকায় এ সেতু যেমন ফিরে পেয়েছে তার আসল সৌন্দর্য তেমনই ঘুরতে আসা সকলেই স্বাচ্ছন্দে সেতুর দুই পাশ ব্যবহার করছেন। এমনকি ঘুরতে আসা সকলেই ফাঁকা সেতুর উপর দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতেও ভুল করছেন না।

সেতুর দুই পাশে দাঁড়িয়ে নির্মল বাতাস আর নয়নাভিরাম সূর্যাস্তটা উপভোগ করছেন আগত সকলেই। এক সময় চটপটির দোকানের কারণে ফুটপাতের পুরোটাসহ মূল সড়কের কিছু অংশ দখলে থাকায় ঘুরতে আসা সকলেই হাঁটাচলায় ব্যবহার করতেন মূল সড়ক। ফলে সকলের কাছেই অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতো।

কিন্তু চটপটি-ফুসকার কোন দোকান না থাকায় এখন এ ঝুঁকিও নেই। সেতুর উপর ঘুরতে এসেছেন রায়নগরের বাসিন্দা আয়শা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, শহরে কোথাও শান্তিতে দাঁড়ানোর জায়গা নেই। এ সেতু উদ্বোধনের পর কিছুটা ফাঁকা থাকলেও সময়ে সময়ে এর দুই পাশে হাঁটাচলার সকল জায়গাই দখলে নেয়।

কিন্তু বিগত কিছু দিন থেকে এখানে দোকান না থাকায় অনেক সুন্দর লাগছে। বিশেষ করে শান্তিতে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। সব সময় এরকম থাকলেই ভালো। তবে যে ভাবেই হোক দীর্ঘ দিন পর সেতুর দুই পাশ মুক্ত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন ঘুরতে আসা সকলেই। এমনকি সব সময় সেতুর উপর ভ্যানসশূন্য দেখার ইচ্ছাও পোষণ করেছেন।

(Visited 716 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here