দোয়ারাবাজারে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল : অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

0
60

সিলেটের সংবাদ ডটকম: দোয়ারাবাজারে গত চারদিনের টানা বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

উঠতি আউশ-ইরি ফসল, রোপা আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়াসহ গো-খাদ্য সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সুরমা ও দোয়ারা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক মতস্য খামারের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্তের আশংকা করছেন চাষীরা।

রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অনেক কম। পানিবৃদ্ধি থাকায় পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত চলতি সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। সুরমা, চেলা, মরা চেলা, চিলাই, চলতি, কালিউরি, খাসিয়ামারা, ধূমখালী ও ছাগল চোরাসহ উপজেলার সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কম থাকায় সীমান্তবর্তী বগুলা, লক্ষীপুর, বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নে পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। দোয়ারা সদরসহ বাকি ইউনিয়নগুলোতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

চিলাই নদী উত্তর বালিছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আকন্দ (সাব্বির) জানান, গত জুনের মধ্যভাগে প্রথম দফা টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বগুলা ইউনিয়নের চিলাই নদীর উজানে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দিয়ে এখন আবারো পানি প্রবেশ করায় বিভিন্ন হাওরের দু’শতাধিক একর আউশ ফসল ও সবজি ক্ষেত ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলা সদরের মাঝেরগাঁওয়ের পাশে সুরমা নদীর ভাঙন সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পানি উঠায় দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজসহ শহরের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসপাড়া, শিক্ষা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুলোতে উপস্থিতির হার কম। দোহালিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপুরে সড়কে ভাঙন এবং মান্নারগাঁও ইউনিয়নের কাটাখালী বাজার এলাকায় বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে ছাতক-দোয়ারাবাজারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে উপজেলা সদরের সাথে বাংলাবাজার, নরসিংপুর, মহব্বতপুর, বগুলাবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান। বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক ও ইউএনও কাজী মহুয়া মমতাজ উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

অপরদিকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকে বন্যা পরিস্থিতি দেখামাত্র নিকটস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেন ইউএনও কাজী মহুয়া মমতাজ। তবে এ পর্যন্ত কোথাও তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও বন্যা ও দূর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন সারাক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

(Visited 25 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here