গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : ৫০টি গ্রাম পানিবন্দি

0
43

সিলেটের সংবাদ ডটকম: গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এতে করে প্রায় ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসত বাড়ি ও রাস্তাঘাটের পাশাপাশি নতুন করে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এছাড়াও বন্যার পানি বাড়তে থাকায় বেশ’কটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে পানি উঠায় সাময়িক ভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব নির্ধারিত আজ বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোশাহিদ মিয়া জানান, বন্যার পানি বেড়ে এ পর্যন্ত বেশক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছেনা। যার ফলে ওই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

গতকাল বুধবার থেকে বন্যার পানি দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এছাড়াও সারী-গোয়াইন ও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট তলিয়ে গিয়ে জেলা শহরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ দিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নতুন করে আরও প্রায় ৩ শত হেক্টর জমির ফসল ও বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে পানিতে নিমজ্জিত জমির ফসল ও বীজতলার পরিমাণ ১ হাজার হেক্টর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে কিছু জমির ফসল ও বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। গেল কয়েক দিন থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত সোমবার থেকে গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বুধবার থেকে বন্যার পানি আরো বাড়লে উপজেলার সর্বত্রই প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এতে করে রাস্তাঘাট ও বসত বাড়িতে পানি উঠে উপজেলার প্রায় লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গো-খাদ্যেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বসত বাড়িতে পানি উঠায় পানিবন্দি হয়ে অনেকে গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন। অনেকের পুকুরপাড় তলিয়ে যাওয়ায় ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

গত দিন দশেক আগে সপ্তাহব্যাপী বন্যায় ভাঙনের কবলে পড়া নদীর তীর ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতের সুযোগ না দিয়ে আবারো আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় মহা দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। এ ছাড়াও বন্যায় পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ আবারো দীর্ঘ পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন।

ইউপি সদস্য মো. জিলানি মিয়া জানান, আমার এলাকার প্রায় ৪৩টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এ ছাড়াও বেশ কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারী দুটি বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বেশক’টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। আমি নিজে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছি এবং সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

(Visited 37 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here