সুনামগঞ্জে দু’শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও বদলী বাণিজ্যের অভিযোগ

0
73

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দু’শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বদলী বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলীর বিপরীতে ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগে এনে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বুধবার (০৪ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলার শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা মো. মোদাচ্ছির আলম সুবল ওই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়তর ২শ’ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন।

ওই বিদ্যালয় মঞ্জুরীকৃত ৫ জন শিক্ষকের স্থলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র ২ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। সহকারি উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র সরকার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস পরস্পরের যোগসাজসে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রধান শিক্ষক নাজমুল হককে তার পছন্দ অনুযায়ী কোন রকম প্রতিস্থাপন ছাড়াই অন্য একটি বিদ্যালয়ে ১৫মে তড়িগড়ি বদলী করে মোটা অংকের উৎকোচ হাতিয়ে নেন।

প্রধান শিক্ষককে বদলীর পর বর্তমানে শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদানে মাত্র ১ জন সহকারি শিক্ষক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরস্পরের যোগসাজসে ইতিপুর্বে উপজেলার দু’ইউনিয়নের ১৫ শিক্ষককের নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে প্রতিস্থাপন ছাড়াই লিখিত-অলিখিত ভাবে আবার কোন কোন ক্ষেত্রে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ওই শিক্ষকদেরকে অন্যত্র বদলীর সুযোগ তৈরী করে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ্যে অনচ্ছিুক একাধিক শিক্ষক জানান, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার ক্লাষ্টারের আওতাধীন কয়েকটি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকাদের মোবাইল ফোনে উত্তপ্ত করণসহ বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে ওইসব শিক্ষিকাদের সাথে আপত্তিকর আচরণ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই।

তাহিরপুর উপজেলার শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা মো. মোদাচ্ছির আলম সুবল বৃহস্পতিবার বলেন, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার নীতিমালা মানেন না, ঘুষের টাকা পেলেই শিক্ষক বদলীতে তৎপর হয়ে উঠেন, শিবরামপুর বিদ্যালয়ে দু’জন শিক্ষকের মধ্যে ১জন শিক্ষককে বদলী করলে অতি উৎসাহী মনোভাবই প্রমাণ করে উনারা প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের নয়- বদলী বাণিজ্য করতে তাহিরপুর শিক্ষা অফিসকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।

তাহিরপুর সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিপ্লব চন্দ্র সরকারের নিকট অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে বদলী করা হয়েছে, তবে বদলীর বিপরীতে কোন ধরণের উৎকোচ বা ঘুষ বাণিজ্যের সাথে আমি জড়িত নই, এটা ভিত্তিহীন। তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফেরদৌসের বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার কয়েকদফা উনার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(Visited 57 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here